পিতা-মাতা হিসাবে আপনার কী কর্তব্য।Responsible of Parents| Role of a Guardian-2021

একটা বাচ্চার জন্ম গ্রহণের পর থেকে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত প্রায় সব রকম বিকাশের নিয়ন্ত্রক তার বাবা-মা। তাই পিতা-মাতা হিসাবে শিশুর প্রতি অনেক কর্তব্য থাকে। Responsible of Parents বা বাবা-মা’র দায়িত্ব কী হওয়া উচিৎ সেই বিষয়ে একটু আলোকপাত করার চেষ্টা করবো।

Responsible of Parents পোস্টটি পুরোটায় মনোযোগ সহকারে পড়ার অনুরোধ রইল।

>>আরও PDF পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে Join করুন<<

responsible-of-parents

Responsible of Parents

“Time and Tide are wait for none” অর্থাৎ সময় এবং স্রোত কারোর জন্য অপেক্ষা করে না। নিজের ছন্দে সর্বদা প্রবাহিত হয়ে থাকে । এই সময় ও স্রোত এর মত মানব জীবনের বিকাশ তার আপন নিয়মেই এগিয়ে চলে।মানব জীবনের আভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক পরিবর্তনের ক্রমান্বয় পদ্ধতিকেই আমরা বিকাশ বলি। অর্থ স্পষ্ট কথায় বলতে গেলে একটা  মানুষের জন্মের পর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ইত্যাদি অবস্থার সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার জন্য যে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয় তাকেই বিকাশ বলি।

Responsible of Parents

একটা শিশুর বিকাশ কালে অভিভাবক হিসাবে আমাদের গুরুত্ব Responsible of Parents অপরিসীম। শিশুটির মানসিকতা, সামাজিকতা, চরিত্র ইত্যাদি কেমন হবে সেটা নির্ভর করে অভিভাবকের দায়িত্বের Role of a Guardian-2021 উপর। ওই যে আমরা সর্বদা বলি “Charity Begins at Home”.

আজ আমরা আলোচনা করব শিক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের অর্থাৎ অভিভাবকদের কর্তব্য কি? কোন ক্ষেত্রে কি রকম ব্যবহার করা উচিত? তার একটা ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করি-

১)সন্তানের শিক্ষাদানের পদ্ধতি কেমন হবে বা হওয়া দরকার :

Responsible of Parents

প্রথমেই বলে রাখি, পড়াশোনা আমাদের শিশুদের মধ্যে একটা ভয়ের সৃষ্টি করে, এর মধ্যে থেকে কোনরকম আনন্দ শিশু খুঁজে পায়না,যা তার সর্বপ্রথম চাহিদা। তাই যে পদ্ধতি অবলম্বন করলে শিশুদেরকে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ বাড়াতে বা আকৃষ্ট করতে পারব একমাত্র সেটাই এপ্লাই করব। অতিরিক্ত প্রেসার নয়।

যাইহোক কয়েকটি পয়েন্ট এর মাধ্যমে আলোচনা বা আলোকপাত করার চেষ্টা করছি-

  • প্রথমত, সহজ ভাষার একটি পাঠ্যপুস্তক সিলেক্ট করুন যেটা শিশুর মনে কিছুটা হলেও আনন্দ দেবে,যেটাতে একটু মজা পাবে। সর্বোপরি তাঁর মন থেকে ভয়টা সরে যাবে ।
  • কোন বিষয় পড়ানোর সময় বিভিন্ন নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে শিশুর প্রথমবার পরিচয় ঘটবে। এরমধ্যে আপনাকে উদাহরণ দিয়ে পরিচয় কে আরও গাঢ় করে দিতে হবে । তাতে বিষয়বস্তু সম্পর্কে শিশুর জানার প্রবৃত্তি বৃদ্ধি পাবে।
  • কোন বিষয় সম্পর্কে যদি প্রাথমিক জ্ঞান না থাকে তাহলে তা নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী বুঝিয়ে দিতে হবে। কোনো শিশুর শিক্ষার ভিত দুর্বল হলে বিরক্ত না হয়ে তার ভিত কে ধীরে ধীরে শক্ত করার চেষ্টা করতে হবে। সেইজন্য অংক বিষয়কে বেছে নিতে পারেন। অংকের ছোট ছোট সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে শিশুর মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।
  • তুলনামূলক কঠিন কোন বিষয় সম্পর্কে জানাতে হলে তার সঙ্গে সম্পর্কিত অপেক্ষাকৃত সহজ বিষয় আগে বোঝান।
  • শিশুকে নিজের বক্তব্য বলার সুযোগ দিন।
  • যা শেখালেন পরক্ষণে সেটা ছেলে মেয়েদের কাছ থেকে জানার চেষ্টা করুন।
  • শিক্ষার্থীদের ত্রুটি বড় করে না দেখে কৃতিত্বটা কে বড় করে দেখুন। কখনো তিরস্কার নয় প্রশংসা করুন।
  • আন্তরিকতার সাথে শিক্ষা দেবার চেষ্টা করুন তবে তাদের সামনে নিজের ব্যক্তিত্ব যাতে হালকা হয়ে না পড়ে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে ।
  • সর্বোপরি ধৈর্য ও সহানুভূতির দ্বারা পাঠদান করা একান্ত প্রয়োজন।

২)রেজাল্ট নিয়ে চাপ দেবেন না :

আমরা প্রত্যেককে জানি ক্লাসের ফার্স্ট বয় বা ফার্স্ট গার্ল একজনই হয়, সেটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে তার পরিশ্রমের উপর। তাই পরিশ্রমের উপর জোর দিতে পারেন কিন্তু পরীক্ষায় এত নম্বর পেতেই হবে এমন টার্গেট সেট করা ঝুঁকিপুর্ন হতে পারে।

Responsible of Parents

Responsible of Parents

বন্ধুদের সাথে তুলনা না করে একটু ঘুরিয়ে বলুন- যে তুমি যেমন পড়াশোনা করেছো, তেমন নম্বর পেয়েছো আরও ভালোভাবে পড়াশোনা করলে তুমি আরো ভালো রেজাল্ট করতে পারবে। এতে সে উৎসাহ পাবে আগামীতে ভালো করার । এর বিপরীত আচরণ করলে বাচ্চার মন আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে, হীনমন্যতায় ভোগে্‌,পড়াশুনার প্রতি নিজের মন দেওয়ার বদলে বাবা-মা’র কথার উপর চিন্তা শুরু করবে  যার ফলে অধ্যায়ন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চাইবে বারবার।

সেই জন্য কোন টার্গেট সেট না করে সর্বদা বোঝান “ছাত্রানাং অধ্যায়নং তপঃ” অর্থাৎ অধ্যয়নই ছাত্রদের একমাত্র তপস্যা।

৩) উচ্চস্বরে পড়ার অভ্যাস করান :

Responsible of Parents

বাচ্চারা যখন পড়তে বসবে অবশ্যই গার্জেন হিসেবে খেয়াল রাখতে হবে কোনভাবে অন্যমনস্ক হচ্ছে কিনা কারণ আমরা জানি পড়তে বসে অন্যরকম অ্যাকটিভিটিতে নিজেদের ব্যস্ত করে তোলা বাচ্চাদের একটি গুণাবলী। সেই জন্য পাশে না বসলেও জোরে জোরে পড়তে বলুন এর সুফল হিসেবে যেমন অন্যমনস্কতা থেকে বাঁচা যায় তেমনি মুখের কথা কানে শ্রবন করলে সহজেই পড়া আয়ত্ত করা যায়।

৪) পড়াশোনা করার জন্য আলাদা ঘর :

Responsible of Parents

নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে বাচ্চাদের পড়াশোনার জন্য একটি নির্দিষ্ট শান্ত সৃষ্ট পরিবেশ সম্পন্ন ঘর থাকা প্রয়োজন। যদি আলাদা কোন ঘর না থাকে তবে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে, যে ঘরে বাচ্চা পড়াশোনা করছে, সেই ঘরে শান্ত পরিবেশ বিরাজমান।

৫) বাড়ির পরিবেশ ঠিক রাখতে হবে :

Responsible of Parents

শিশুর পড়াশোনা, মেধা, সামাজিকতা, মানসিকতা ও চরিত্র গঠনে যেমন অভিভাবক বা শিক্ষকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ,  তেমনি পরিবেশও নিবিড় ভাবে জড়িয়ে থাকে। তাই অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে বাড়ির পরিবেশের দিকেও সর্বদা লক্ষ্য রাখতে হবে।

 আসুন দেখে নিই বাড়ির পরিবেশ ঠিক রাখতে কোন কোন বিষয়গুলো গভীরভাবে দৃষ্টিপাত করতে হবে-

  • বাড়ির পরিবেশ যেন ভদ্রজনোচিত হয়, নিত্যদিন যেন ঝগড়া-গণ্ডগোল না লেগে থাকে। এতে পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটবে।
  • বাড়ির টিভি রেডিও সর্বদা যেন না বাজে। একটা নির্দিষ্ট সময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে কিন্তু সব সময় টিভি রেডিও-র শব্দ পড়াশোনার অ্যাটেনশন কে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
  • কোন ক্লাবের পাশে বাড়ি করবেন না।
  • মদের দোকানের পাশে বসবাস করা থেকে বিরত থাকুন।  
  • খেয়াল রাখতে হবে বাড়ির কেউ নেশাগ্রস্ত বা নেশা করছে কিনা যার প্রভাব শিক্ষার্থীর উপর পড়তে পারে।

৬) বাড়িতে পড়াশোনার রুটিন করে দিন :

Responsible of Parents

পৃথিবীতে কোন সাফল্যই একনিষ্ঠ ভাবে অধ্যায়ন ছাড়া আসতে পারে না। তাই পড়াশোনার জন্য নিজের ছেলেমেয়েদের একটি হোম রুটিন তৈরি করে দিন। কোন সময় ঘুম থেকে উঠতে হবে, কখন ব্রেকফাস্ট করবে, কখন পড়তে বসবে, পড়তে বসে কোন কোন সাবজেক্ট কোন সময় পড়বে, কতক্ষণ সময় কোন বিষয়কে দেবে, সেই সমস্ত বিষয় লক্ষ্য করে একটা মজবুত রুটিন বানিয়ে দিন দেখবেন উন্নতি হচ্ছে।

৭) বর্তমান সময়কে কিভাবে ব্যবহার করবেন বা বর্তমান পরিস্থিতির উপর খেয়াল রেখে বাচ্চাদের বা ছেলে মেয়েদের ওপর কিভাবে নজর রাখবেন বা অভিভাবক হিসাবে এই সময় আপনাদের কর্তব্য কি হওয়া উচিত(Responsible of Parents) :

Responsible of Parents

যে কোন মহামারী কিভাবে মানব জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে তার দৃষ্টান্ত আমাদের সবার সামনে। “করোনা” নামক একটা ভাইরাসের দাপটে আজকের পৃথিবী তার নিজস্ব গতি হারিয়েছে যার প্রভাব অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থার ওপর পড়ার সাথে সাথে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর। প্রায় দুই বছর হতে চলল সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। কোন রকম গড়িমসি করে অনলাইন ক্লাস এর মাধ্যমে শিক্ষাকে তুলে ধরার বা বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শুধুই বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা, কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থতা কবে আসবে তা আমাদের জ্ঞান সীমার বাইরে। এমত অবস্থায় শিশু-কৈশোড়-যৌবন আজ ধ্বংসের পথে।ধীরে ধীরে নিজেদের বই বিমুখ করে ফেলছে স্টুডেন্টরা। এতে তাদেরকে কোন ভাবে দোষারোপ করা যাবে না। এর সমাধান আমাদেরকেই খুঁজতে হবে, নয়তো আগামীর যৌবন পঙ্গু হয়ে পড়বে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল লিঙ্ক :- Porasonar Jagat

 আসুন জানি কিভাবে আমাদের বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখবো পড়াশোনার গন্ডিতে:-

প্রথমত অনলাইন ক্লাসের দৌলতে আমাদের শিশুদের হাতে মোবাইল, ল্যাপটপ নামক ডিভাইস দিতে বাধ্য হয়েছি,  কোনো অসুবিধে নেই, প্রয়োজনকে মানতেই হবে। কিন্তু ঠিক এইখানে আমাদের লক্ষণীয় বিষয় হল ক্লাস টাইম বাদ দিয়ে যেন ওই ডিভাইস তার কাছে না থাকে। লকডাউন এর সময় আপনিও বাড়িতে অনেকটা সময় আছেন। সেই সময়ে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন।

Responsible of Parents

কোন বিষয়ের উপর কয়েকটা লাইন লিখতে বলুন। বাড়িতে অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে মজার কোন অ্যাক্টিভিটি করুন। গল্পের বই পড়তে দিন। মনে রাখতে হবে পড়াশোনা থেকে সরে গিয়ে সন্তানরা যেন অন্য কোন কাজে লিপ্ত হয়ে না পড়ে। তার জন্য যতরকম অ্যাক্টিভিটি করা প্রয়োজন আপনাকে করতে হবে। তবেই আগামীর সুস্থ-সবল এবং শিক্ষিত সন্তান আমরা লাভ করব।

আরও পড়ুনঃ- Autobiography of Famous Persons(বিখ্যাত মানুষদের আত্মজীবনীর নাম সমূহ)

দর্শকদের প্রতি আবেদন :- প্রিয় বন্ধুরা, আশা করছি আপনারা পুরো পোস্টটি পড়েছেন। যদি এই পোস্টটি হেল্পফুল বলে মনে হয়,তাহলে আপনাদের কাছে একান্ত অনুরোধ পোস্টটির লিংক নিজেদের টাইমলাইন,গ্রুপ,Whatsapp ইত্যাদিতে Share করুন।আর নীচের কমেন্ট বক্সে জানান কেমন লাগলো। অসংখ্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment

error: Don\'t Copy !!
Share via
Copy link
Powered by Social Snap